চট্টগ্রাম, ২৪ ডিসেম্বর : আইনজীবী সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মামলাটি বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিযুক্ত সরকারি কৌঁসুলি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী। তিনি জানান, সাইফুল হত্যা মামলায় মোট ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। এর মধ্যে ২১ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং ১৭ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত মালামাল ক্রোকের আদেশ, হুলিয়া ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারিসহ সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় আজ সেটি দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে।
চার্জশিটে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- চিন্ময় দাশ ব্রহ্মচারী, চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, বিশাল, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাশ, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস।
সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ আরও জানান, এখন মামলার ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ যেভাবে উঠে এসেছে, তাতে আসামিদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি একটি আলোচিত মামলা, তাই রাষ্ট্রপক্ষ চেষ্টা করবে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করার।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১ জুলাই পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। গত ২৫ আগস্ট আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের উসকানি ও নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার সময় রিপন দাস বঁটি দিয়ে আইনজীবীর ঘাড়ে দুটি কোপ দেন এবং চন্দন দাস কিরিচ দিয়ে কোপ দেন। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় অন্য আসামিরা লাঠি, বাটাম ও ইট দিয়ে পিটিয়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় (শোন অ্যারেস্ট)। বর্তমানে তিনিসহ হত্যা মামলায় ২২ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে মামলার ধার্য দিনে মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী ও নিহত সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন। দুপুরে তিনি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর একটি আবেদন জমা দেন। আবেদনে তিনি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের দাবি জানান। জামাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলোচিত এই মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির জন্য সরকার এখনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচার সম্পন্ন হোক।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি করেছিলেন। যদিও পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :